কলিকাতা আদি ব্রাহ্মসমাজ যন্ত্রে জ্রীদেবেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য দ্বার! মুদ্রিত। ৫৫নং অপার চিৎপুর রোড সন ১৩১০, ২৮ শ্রাবণ

শীজোতিরিন্দরনাথ ঠাকুর কর্তৃক

সঙ্কলিত ভাষান্তরিত

কলিকাতা আদি ত্রাঙ্মপদমাজ যন্ত্রে

শ্রীদেবেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্ধ্য দার মুদ্রিত।

৫৫নং অপর চিৎপুর রোড সণ ১১১০

মুলা ॥* আন!

নুচিগত্র। ব্ষয়।

কনিকাতা দার্জিলিং দিংহ্ল

দিংহবে বৌদ্ধ

শানে মায়াবাদ অধৈতবাদ '" তারতবর্ধে-জয়গুর ভারতবর্ষে বারাধী

৪8$

ৃা।

কলিকাতা, দার্জছিলিৎ দিংহল।

ছুই বংসর হইল আদরে শেন্রিয়ে! নামক একজন ফরাদিম্‌ পর্যাটক ভারতবর্ষে আসিয়াছিলেন। তিনি তাহার ভ্রমণরত্তাস্ত গ্রন্থাকারে প্রকাশ করিয়াছেন ভারতবর্ষের প্রধান প্রধান স্থান অধিবাঁগীদিগের আচার ব্যবহার, ধর্ম, রীতিনীতি পরিদর্শন করিয়া! তাহার মনে খন যে ভাব উপস্থিত হইয়াছে তাহা তিনি অতি সরন ভাষায় লিপিবদ্ধ করিয়াছেন তাহার লেখার ধরণ অতীব মনোৌরম। তীহার বর্ণনাশক্তি চমত্কার। তাহাতে চিত্রকরের নিপুণতা লক্ষিত হয়। দুই একটা সামান্ত আঁচড় দিয়া এক-একটা ছবি কেমন জলন্তন্ূপে ফুটাইরা তুপিয়াছেন। তাহার বাহ্ৃপ্ররুতির বর্ণনা কবিত্বরসে পুর্ণ। তাহার আর একটি প্রধান গুণ এই, বিদ্েশীয় আচার ব্যবহার, ধর্ম প্রভৃতির সমালোচনায় তাহার লেখায় কোনপ্রকার সন্ীর্ঘতা প্রকাশ পায় না। তিনি যতদূর পারিয়াছেন, ভিতর পর্য্যন্ত তলাইয়! দেখিতে চেষ্টা করিয়াছেন, এবং দেশকালপাত্র বিবেচনা করিয়! সঙ্গদয়ভাবে উদারভাবে মস্ত পর্যালোচনা করিয়াছেন। এরূপ উদারতা বোধ হয় ফরাসীদিগের জাতীয় ধর্ম। ইংরাজ পর্ধ্যট কদিগের লেখায় এরূপ ভাব সচরাচর দেখা যায় না।

দার্জিলিঙ্গের ইংরাজ-” জের উল্লেখ করিনা তিনি বলেন--

ভারতবর্ষে

«এই “আ্যাসেপ্ লি-রুম্স্ত-এ সন্ধাকালে নৃত্য হয়-সেই সম্ষে স্ীপুরুষের মধ্যে রসালাঁপ চলে, এবং সেই রপালাঁপ পরিণামে বিবাহে পর্যবসিত হয়। *** *** এই দেখ সৈনিকের দল--বাঙ্গা- মুখ, ব্যায়াম-গঠিত সবল শরীর, চুল পমেটমলিপ্ত,_উহারা বারিকে জেপ্টল-ম্যানের মত বাস করে--ছড়ি হাতে, অবৈতনিকের ভাবে, বিজেতৃভাবে সদর্পে পায়চালি করে। এই দেখ ভদ্র “বোডিং হাউস্ঃ। দিনান্ত-ভোজনের উপলক্ষ্যে সবাই কালো! কোর্তী পরি- যাছে। বাড়ির কত্রী ভোজনের আরস্তে দস্তরমত প্রার্থনা উচ্চারণ করিতেছেন, এবং মাংসের পাঁংলা-পাংলা, চাঁকৃল। কাটিয়া চাঁপ্‌, চাপ্‌ “পুডিংএর টুকৃরা সকলের পাতে শিষ্টতা-সহকাঁরে চালান করিতেছেন। গৃহস্বামী, ধাহার অস্তিত্ব বিলুপ্ত বলিলেই হয়, অথচ যাহার না থাকাটাও ভাল দেখায় না_-তিনি গৃহের মন্ত্রম মর্য্যাদ! রক্ষা করিবার জন্তই যেন অধিষ্টিত। ভোজনকাঁলে শান্তভাবে কথাবার্তী আরম্ভ হইল--দে কথাবার্ত! স্থশিক্ষিত, শান্ত সামা- জিক লোকদ্িগেরই উপঘুক্ত। আহারের পর বৈঠকখানায় ঘাওয়! গেল। একটি যুবতী মহিল! পিয়ানো বাজাইতে বদসিলেন। কতক- গুলি প্রেমের গান স্বদেশের গৌরব-ন্চক গান বাজান হইল। পরদ্িনে কোথায় ভ্রমণ কর! যাইবে স্থির করিরা মজ্লিন্‌ ভঙ্গ হইল। ইহার সহিত টন্কিন ট্যুনিস্‌ গ্রভৃতি ফরাসী উপনিবেশের তুলনা করিয়া দেখ। ফরাদী ও্পনিবেশিকেরা প্রায়ই অবিবাহিত। তাহাদের যেন সময় কাটে না প্রবাসের কষ্ট তাহারা কি তীব্র রূপেই অনুভব করে। এখানে ইংরাজেরা যেন ইংলগ্ডেই রহিয়াছে। শুধু যে তাহাদের অনুষ্ঠান, তাহাদের অভ্যাস, তাহাদের জাতীয় স্কার এখানে আনয়ন করিয়াছে তাহা নহে, নিজ জন্বস্থানের বহিদৃশ্যি সাজপক্জা পর্যন্ত যেন এখানে উঠাইয়া আনিয়াছে।

কলিকাতা, দ্বাঙ্জিলিং সিংহল

ভিন্ন দেশের সংস্পর্শে তাহাদের স্বভাবের কিছুমাত্র ব্যতিক্রম হয় নাই। আদল কথা, ইংরাজের। যেরূপ ছূর্ণম্য এমন কোন জাতিই নহে-_নূতন অবস্থার মহিত আপনাদিগকে উপযোগী করিয়৷ লইতে উহার! নিতান্ত অক্ষম। আপনাদের যে ছীচ, যে ব্যক্তিগত ভাঁব, তাহা কিছুতেই তাহার! ছাঁড়িতে পারে না। ইহা হইতেই তাহা- দের এত নৈতিক বল। কতকগুলি অপরিবর্তনীয় সংস্কার থাকাতেই তাহাদের ইচ্ছার এত বল, কিন্তু আবার এই কারণেই তাহাদের সহানুভূতি বুদ্ধির বিকাশ সীমাবদ্ধ। ইহারা এদেশীঘ্ লোক" দিগকে একেবারেই বুঝে না, এবং বুঝিতে চেষ্টাও করে না। নিজ সভ্যতার উচ্চভূমিতে দণ্ডায়মান হইয়া এদেশীয় লৌকদ্দিগকে অদ্ধ-অসভ্য “পৌত্তলিক বলির নিরীক্ষণ করে। এই “পৌন্তলিক, শবটি কি হিন্দু, কি বৌদ্ধ, কি পানী সকলের প্রতি নির্বিশেষে উহার! প্রয়োগ করিয়া থাকে ****** এদেশীয় লোকের মধ্যে উহার কেবল কুলি কিম্বা! খানদামার মৃন্তিই দেখিতে পার--উহার! মনে করে, এদেশীর লোকেরা মোট বহন জুতা সাফ করিবার পক্ষেই ভাল। দেশের সন্বন্ধেও উহাদের এই ভাব। উহাঁরা এই দেশকে কেবল ব্যবস। বাণিজ্যের স্থান_-কৃষিক্ষেত্ররূপেই দশন করে।”

কলিকাতা! দেথিয়! তাহার প্রথম সংস্কার কিরূপ হইয়াছিল তাহা এইরূপে বর্ণনা করিয়াছেন ।_-“কলিকাতায় তিনদ্িন। লোকের জনতার হতবুদ্ধি গ্রীষ্মের তাপে গ্রপীড়িত হইয়া কিছুই দেখি নাই। কেবল একটা সাদা রংএর অনুভব মনের উপর ভাসিতেছিল। সাদা আলো, সাদা বাড়ি, সাদা-কাপড়পর! লোকের আ্রোত রাস্ত। দিয়! চলিয়াছে .* *** দোকান, আফিস, ব্যাঙ্ক, গাড়ি ঘোড়া, দেয়ালে-মারা বিজ্ঞাপনের সংখ্যা দেখিয়া মনে

£& ভারতবর্ষে

হয় যেন লঙন কিন্বা প্যারিসনগরের এক্সচেঞ্জের নিকটে আছি প্রভেদ এই, বড় বড় কালো.কোর্ভাপরা, নলাকা র-টুপিপরা রুরোপীয়ের বদলে সাদা ধুতি-পরা, ক্ষুদ্র, শীর্ণ, সুকুমার স্ত্রীন্ুলভ মুখত্রীসম্পন্ন বাঙ্গালীদিগের কলরব ইহারা দিংহলবাসীদিগের মত অলদ নিদ্রালু নহে, পরন্থ কর্মশীল, চটুল, দ্রুতগামী জীব্ন- উদ্যমে পরিপূর্ণ পেন্সিলবিক্রেতা “হকার? হইতে ফিটেনে'ঠেসান- দেওয়! স্থলদেহ বাবু পর্যান্ত সবাই অর্থের চেষ্টায় ফিরিতেছে। দেখিয়। বেশ অনুভব হয়, কলিকাতা নগর একটি প্রধান বাণিজ্যের স্থান--পৃথিবীর একট মহ! বিপণি।

এপিয়া লগুনের' এই সংমিশ্রণ বড়ই অদ্ভূত। এক-এক সময়ে মনে হয় ঘেন লগ্ডনের ওয়েষ্টএণ্ডে হাউড্পার্কের নিকটে আছি। দেই রকম বড় বড় সোজা! রাস্তা, সেই রকম উত্তচ্গ প্রাসাদ, সেই রকম গ্রীদীয় স্তত্তঘুক্ত গাঁড়িবারাওা, সেই রকম বিস্তুত পদচারণ- পথ, সেই রকম রেল-ঘেরা চৌকোণ| নগরাঙ্গন, রাস্তার কোণে কোণে প্রতিষ্ঠিত সেই রকম ইংরাজি প্রস্তরমূ্তি

গ্রন্থকার এক স্থানে ইংরাজের সহিত হিন্দুর তুলনা করিয়া বলিয়াছেন £_-“ইংরাজের! এরূপ ছুর্ণম্য কঠিন যে, বিশ কোটি হিন্দুদিগের মধ্যে হারাইয়! গরিয়াও উহাদের কিছুমাত্র পরিবর্তন হয় নাই; পক্ষান্তরে হিন্দুর লক্ষ ইংরাজের সংস্পর্শেই পরিবন্ভিত হইয়াছে বলিয়া মনে হয়। কলিকাতায় দেশীয় লোকের! ইংরা- জিতে গ্রন্থ লিখিতেছে, সংবাদপত্র চালাইতেছে দেখিলাম ) গুধু যে তাহাদের ইংরাজি চমৎকার তাহ নহে--তাহাতে ইংরাজি ধরণ- ধারণ, ভাব-ভক্তি, ইংরাজি ধরণের ভাবনা, ইংরাঁজি ধরণের অনুভব সমস্তই বজায় দেখিতে পাওয়! যায়। কোন কোন প্রবন্ধ পাঠ করিরা বনে হন যেন লগ্ডনের কোন উত্কষ্ট নমালোচনী- পত্রিকার

কলিকাতা, দার্জিলিং দিংহল।

সম্পাদক কোন পাদ্রির লেখনী হইতে নিঃস্থত। এরূপ কতকগুলি ছাচ-গ্রাহী আটিই দেখিতে পাওয়া যায় যাহারা নিজত্বম্পন্ন কোন প্রঠিভাশালী ব্যক্তির সহিত কিছুকাল কথা কহিম়্াই তাহার ধরণ-ধারণ, হাব-ভাব, কেতার অবিকল নকল তুলিতে পারে। কারলাইল ইঙ্গ-স্তাক্সন জাতির উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন-__উহ্বারা পপাষাণ-গঠিত জাতি” পাধাণ-গঠিত জাতিই বটে) হিন্দুর কর্দম- ছাচে স্বকীয় পাষাণ-মুত্তির ছাপ বসাইরা উহারা নিজে অবিকৃত রুহিয়াছে, অথচ আপনাদিগের প্রত্যেক খোঁচ্‌-খাচ সেই হিন্দুর স্ুনম্য ছাচে মুদ্রিত করিয়া দিয়াছে।”

ভারতবর্ষের কতিপয় প্রধান নগরের স্বরূপ-লক্ষণ গ্রন্থকার কেমন বেশ সংক্ষেপে ব্যক্ত করিয়াছেন। তিনি বলেন--“কলি- কাতা ইংরাজের ভারতবর্ষ) বারাণনী ব্রাহ্মণের ভারতবর্ষ; আগ্রা মোগলদিগের ভারতব্ষ; আর জয়পুর রাজাদিগের ভারতবর্ষ-_ উপন্তাষের ভারতবষ।৮

ইলোরা-গুহায় মহাদেবের মৃত্তি দেখিয়! গ্রন্থকার হিন্দুধন্র-সন্বন্ধে নিজ মতামত ব্যক্ত করিয়াছেন। তিনি বলেন ;--“সংহার-শক্তি স্থজন-শক্তি ব্রাহ্মণদিগের মতে একই শক্তির বিভিন্ন আকারমাত্রঃ তাহাদের সংহারের স্থজনের দেবত। পৃথক নহে, একই ইহাই ব্রাহ্মণদের মহা নুতনত্ব। অন্তান্ত জাতি মন্ুষ্যভাবে দেবতাকে দেখিতে গিয়'_ভালমন্দ, দ্ুন্দর কুৎদিত__-এইরূপ বিভিন্ন পৃথক্‌ পৃথক্‌ আপেক্ষিক লক্ষণে আপনাদিগের দেবতাদ্িগকে লক্ষণাক্রান্ত করিয়াছেন। কিন্ত হিন্দুরা অপীমের দিক্‌ দিয়া দেখিয়াছেন বলিয়া তাহাদের নিকট দেবও নাই দানব্ও নাই, পরন্ত এক নিরথেক্ষ অনীম শক্তি বর্তমান ; তিনিই স্বজন করেন, তিনিই মংহার করেন- তিনিই একমাত্র তত | আরও বথাধথরূপে

ষেভারতব।

বলিতে গেলে, হিন্দ্িগের নিকট মৃত্যু একটি পরিবর্তন মাত্র ;-_ ঘে পরিবর্তনের সমগ্র শ্রেণীপরম্পরাই জীবন। তাহারা যাহা বপেন আধুনিক বিজ্ঞানও তাহাই বলে। জীবন-বিশিষ্ট জীব-বিশেষ এক-একটি আকারমাত্র_-উপার্ধান-পুক্লীকরণের বিভিন্ন প্রণালী- মীত্র। আমাদের দেহের কোধাণু লইম্ব(ই আমাদের সমগ্র দেহ; সেই কোষাথুদমূহ ক্ষণে ক্ষণে মরিতেছে-_তাহাতেই আমরা জীবিত আছি। :* *** *** *** সমস্ত জগৎকে মহাসাগরের সহিত তুলনা করা যাইতে পারে। তাহাতে অদংখ্য তরঙ্গের হিল্লোল বহিতেছে ; এই প্রত্যেক তরঙ্গ যাহ! উঠিতেছে পড়িতেছে উহা! এক একটি জীবনস্বরূপ-_যাহার আরন্ত শেষ আমরা দেখিতে পাই। তরঙ্গদকল যেমন ফেণৌচ্ছাসে ভাঙ্গিয়া পড়িতেছে। অমনি এক দুর্দিম্য শক্তি আসিয়া আবার উহাদিগক আলোকের দিকে উদ্ধে উঠাইতেছে। কিন্তু কেনা দেখিতে পায়, এই নৃত্যশীল তরঙ্গকল এক-একটি আঁকার মাত্র, কারণ প্রতিমুহূর্তেই তাহাদের উপাদান ভিন্ন হইয়! যাইতেছে_-তাহাদের মধ্যে বাস্তবিক আর কিছুই নহে, ধে-এক অদ্বিতীয় সাধারণ শক্তি তাহাদের মধ্যে আছে তাহাই কেবল বাস্তবিক--তাহাই সমস্ত সাগরকে বিচলিত করিয়া তুলিতেছে। কোন জীববিশেষ এই মহাশক্তির ক্ষণিক বিকাশমাত্র। সে জীব পরিবন্তিত হউক, বিকৃত হউক, মৃত্যুমুখে পতিত হউ ক-- সেই শক্তির তাহাতে কিছুমাত্র আইসে যায় না। সেই একই শিবশক্তি যাহা! জগতের আদিম নৈহারিক অবস্থায় কাজ করিয়া- ছিল, তাহা আজও সূর্য্য গ্রহণক্ষত্রে বিকাশিত হইয়া আমাদের ভূলৌকে মহাঁদেশরূপে, সমুদ্ররূপে, পর্ধতরূপে, জীবরূপে, মন্ুষ্য- রূপে, সমাজর্ূপে, নগরর্ূপে বিকীর্ণ হইতেছে। সেই "একই শিবশক্তি, দৃশ্যমান গতিকে আণবিক গতিতে পরিণত করিয়া

কলিকাতা, দার্জিলিং সিংহল।

কাঁলদহকারে গ্রহের উপর গ্রহের পতন সংঘটন করিয়1, পরিণামে আপনার নেই অনির্দেশ্য আদিম শক্তিতে ফিরিয়া যাইতেছে যাহা হইতে ক্ধ্য, গ্রহনক্ষত্র, সমুদ্র, মহাদেশ, উদ্ভিচ্জ, সমস্ত জীবপুঞ্ত পুনর্বার নিঃস্থত হইতে পারে কে বলিতে পারে, এক সৌর-জগৎ ঘুরিতে ঘুরিতে ক্রমে আর এক মৌর'জগতের উপর পড়িয়া কালে সমস্ত হ্ৃষ্টিই বিনাশ প্রাপ্ত হইবে না হিন্দুর প্রন্রা-চক্ষু এই সম্ভাবনীয় নিয়মের একটু আভাম পাইয়াছে; কারণ, তাহারা বলেন, কত অনংখা যুগে ব্রহ্মার একদিন হয় সেই কালের মধ্যে নিগুণ ব্রহ্ম অভিবাত্ত হইর়1, বিকশিত হইয়া, জীব স্থষ্টি করিয়া, সচেতন হইয়া, পুনব্বার আপনাকে সন্কুচিত করি নিপুণ অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেন এই শক্তির রূপক হিন্দরা আর কিরূপে কল্পনা করিতে পারে--তাই তাহারা শিবকে বষ্টিকর্তী প্রলয়কর্তী” বলিয়৷ সম্বোধন করে |”

গ্রন্থকার হিন্দুধর্মের সর্ধাশ্রয়ী সর্ব্সহিষু উদীরভাব উহার গঠনপ্রগালী ঠিক ধরিতে পারিয়াছেন। তিনি এক স্থানে এইরূপ বলেন 2 -“কলিকাতায় একজন ইংরাজ আমার নিকট আক্ষেপ করিতেছিলেন, খুষ্টধর্ম-প্রচারে তেমন সফলতা হইতেছে না *৮.-৭ বাহ্মণেরা ধৈর্যা, মহিষুতা কৌতুহলপহকারে খুষ্টধর্ঘম প্রচারক- দিগের কথ শ্রবণ করে। উহাদের ধর্ম এরূপ বনৃভাবাত্মক বহুমতাত্মক যে উহ্থাকে একটি পদার্থ মনে করিয়া ধরিতে-ছু'ইতে পারা যায় না। ইংবাজ মিশনবিরা মুদলমানদিগকে ধর্মের তর্কে যেরূপ পরাস্ত করিতে পারে বলিয়া অভিমান করে, হিন্দুদিগকে সেরূপ পরাস্ত করা অসম্তভব। থৃষ্টীয় প্রচারকেরা যতই কেন প্রতি- বন্ধক আনয়ন করুন না, তাহাতে হিন্দুধন্মের গতিরোধ হওয়া দূরে থাক্‌, হিন্দুধর্মের জীবনী-শক্ত উপযোগিনী-শক্তি এত বলবতী

ভারতবর্ষে |

ঘে, সেই মকল প্রতিবন্ধককে অনায়াদে আত্মা পরিপাঁক করিয়া সে আপনার কাঁয় বুদ্ধি করিয়া থাকে এমন কি, ব্রাঙ্গ- ণেরা বলেন, তাহীর৷ তেত্রিশ কোটি দেবতার মধ্যে ধৃষ্টকেও প্রবিষ্ট করাইতে পারেন যদি খুষ্টানেরা এই কথাটি মাত্র স্বীকার করেন যে, যুরোপীয়দিগ্ের জন্য বিষণ থৃষ্টের আকারে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হইয়াছেন। এইপ্রকারে, কলিকাতার আধুনিক ত্রাঙ্গ-সম্প্রদাস্ স্বাধীন চিন্তাশীল ইংরাজ লেখকদিগের নৈতিক একেশ্বরবাদ অবলম্বন করিয়াছেন। স্থষ্টি হইতে বিভিন্ন ঈশ্বরের অনন্ত অসীম ব্ক্তিগভ অস্তিত্ব, জগতের পিতৃবৎ শাদনপ্রণালী, আত্মা দেহের ভিন্নতা, পরকালের দ্রণ্ড-পুরস্কার প্রভৃতি সাধারণ দার্শনিক তত্নকল যাহা আব্কাল ইংলগ্ডে প্রচলিত তাহা সম্প্রদায় আত্মস্থ করিয়াছে! পূর্বকালেও হিন্দুধর্ম এইরূপ বৌদ্ধধর্মকে একেবারে অগ্রাহা না করিয়।, পর্ত উহার সাম্প্রদায়িক বিশ্বাসের উপকরণগুলি আস্তে আস্তে পরিত্যাগ করিয্কা, কেবলমাত্র উহার সার-রসটুকু লইয়া আপনার দেহ পরিপুষ্ট করিয়াছিল। মাধুর্যা, বিশ্বজনীন দয়াদাক্ষিণ্য,- যাহা ইতরজীব পর্যান্ত প্রসা- রিত-_সন্গ্যাসধর্খ, এই সকল লক্ষণের দ্বার! মনে হয়, শাকাসিংহের আত্মা এখনও ভারতভূমিতে বিরাজ করিতেছে এইপ্রকারে ভারতের ধন্ম বাচিয়া আছে, বৃদ্ধি লাভ করিতেছে এই ধর্ম সর্বাপেক্ষা স্ুনম্য অবস্থান্থগামী ;) এবং ইহা! এত জটিল, এত অসংলগ্ন পরিবর্তনশীল উপকরণে গঠিত, উহার আকার এক্ূপ চঞ্চল, এত অনিশ্চিত যে উহাকে একটি-ধর্ম বলিয়া মনে হয় না। এক হিসাবে, উহাকে এক ধর্ম বলাও যাইতে পারে, যেমন বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন জলবাযুবিশিষ্ট এই বিচিত্র ভৌগোলিক সমষ্টিকে একদেশ বলিতেছি, কিন্বাঁ এই বিচিত্র জাতি বর্ণের

কলিকাতা, দাঞজ্জিলিং সিংহল। রে

সন্মিলনকে আমরা এক হিন্দুজাতি বলিতেছি। বৈচিত্রোর _মধোও একটা ধক্যস্থল আছে। ভারতীয় ধর্মের ত্রস্থানে অদ্বৈত- বাদ প্রথমে সুস্পষ্টরূপে লক্ষিত হয়; তাহার পর ত্রিশ শতাব্দী কাল ধরিয়া, জিত, বিজেতাদের ধর্ম মিশিত হইয়া গিয়। সেই অদ্বৈতবাদ একটু তিমিরাচ্ছন্ন হইয়াছে; আজিকার দিনে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন নৈতিক দার্শনিক মতের জাল হিদ্দু- ধর্মের মধ্যে বিস্তীর্ণ হইয়। এরপ প্রকাণ্ড আকার ধারণ করিয়াছে যে, উহার শৃঙ্খল আর খুঁজিয়া পাওয়া ভার এইপ্রকাঁর, ভারতের বিস্তীর্ণ কর্দমময় গঙ্গানদীও বিভিন্ন আ্োতন্বিনীর চির- প্রবাহী জোতে পরিপুষ্ট হইয়া, রাশি-রাশি উদ্ভিজ্জাবশেষের ভারে আক্রান্ত হইয়া_-বন, জঙ্গল, পুরাতন জনপদ, আধুনিক ইংরাঁজ-নগর প্রভৃতির মধ্য দিয়া অনিশ্চিত গতিতে আকিয়া বাকিয়া চলিয়াছে ; এবং বিস্তৃত ভূমি প্লাবিত উর্বরা করিয়া, নানা শাখাপ্রশাখ। বিস্তার করতঃ সাগরে িলাইয়া গিয়াছে”, পাঠককে মুলগ্রন্থ পড়িতে অন্বরোধ করি--তাহাতে ধে তিনি আমোদ উপদেশ একাধারে প্রাপ্ত হইবেন ইহা! মুক্ত- কণ্ঠে বল! যাইতে পারে।

(২)

ফরাপী পর্যটক আন্দ্রেশেত্রিয়ে! মিংহলদ্বীপ প্রথম বখন

জাহাজ হইতে দেখেন তখন তাহার কিরূপ মনে হইয়াছিল

তাহ! বর্ণনা করিয়াছেন। “গত কল্য “কোইট্‌,-খেলা ছুই

বাদ্ধি হইল, "তাহার মধ্যে একটি ছোট ইংরাজ বাঁলিকা,__মুপের

রঙ ফ্যাকাসে স্বভাব একগ্ঁয়ে,--কাপ্তেনের নিকট এই অঙ্গী,

কার করিল, যদি আঙগ সন্ধার সময় আমরা কলম্বো নগরে

১৩ ভাঁরতবর্ষে।

পৌছিতে পারি তাহা হইলে সে তাহাকে তাহার একটি মুচ্কি হাদি দান করিবে। পাঁচটার সময় পূর্বদিকে কুয়াশার ন্যাক় অস্পষ্ট কতকগুলা কালো! দাগ দেখা গেল। ছয়টার সময় আকাশে বেগ্ণী রঙের প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড মেঘ-রাশি; সেই মেঘ-ভারাক্রাস্ত আকাশের নীচে নাঁরিকেলবৃক্ষসমাচ্ছন্ন একটি নি্নভূমি দেখ! দিল। যতই আমরা অগ্রসর হইতে লাগিলাম, ততই উচ্চ, সরু বৃক্ষকাওসকল স্প্টরূপে লক্ষিত হইল। তাহার! একটু হেলিয়! সবেগে যেন আকাশ ফুঁড়িয়া উঠিয়াছে, এবং তালজাতীয় বৃক্ষের রীত্যন্থমারে শিরোদেশে শাখাপত্র বিস্তর করিয়াছে মনে হয় যেন, একটি বিস্তৃত অরণ্য ফাগর-গর্ভ হইতে হঠাৎ সমুখিত হইয়াছে এখনও উপকূল এক ক্রোশ দুরে, এখনও মাটি দেখ! যায় না-কেবলই ঘোর হরিৎ বর্ণ'রাশি; তীরভূমির নিকটে গিয়াও আর কিছু দেখা যায় নাঁ। কেবলমাত্র বিষুবরেখ!- প্রদেশ-স্থুলভ দেই উদ্দাম সরস উত্তিজ্জরাশি বর্ষা-সিঞ্চিত ভূমি হইতে সতেজে উত্থিত হইয়া! মুক্ত বাযুর আলিঙ্গনে শ্বকীয় হরিং কর্তল প্রারিত করিয়া আছে ।»

সেখানকার “ওরিএণ্টাল” নামক হোটেলে যুরোপীয় প্রত দেশীয় ভূত্যদিগের যেরূপ রকম-নকম গ্রন্থকার দেখিয়াছেন তাহ! অতিমুন্দররূপে বর্ণনা করিয়াছেন। “ওরিএণ্টাল হোটে- লের বাড়িটি প্রকাণ্ড বেশ ন্ুখাবাস্য। হোটেল-স্বামীর আদব্-কায়দা খুব ছুরস্তঃ ভূত্যদের প্রতি তিনি অল্প কথায় আমাকে যথাস্থানে স্থাপিত করিবার আজ্ঞা প্রচার করিলেন; তাহার সেই আজ্ঞা ভৃত্যেরা নীরবে নতমস্তকে গ্রহণ করিয়। আমাকে একটি মৌধ-ধবল বড় কামর1 দেখাইয়। দ্রিল। বেশী আম্বাব নাই-কেবল একটিমাত্র মশারি-টাঙ্গানো লোহার

কলিকাতা, দাজ্জিনিং দিংহল। ১১

খাট; আর, একটি বেতে-ছাওয়া গভীর-তল আরাম-চৌকি ) নিস্তব্ধ দুর্ধাপ্য সময়ে সেই চৌকির মধ্যে ভূবিয়া থাকিতে বেশ। কামরার চাদোয়া-ছাদে একটি. অদ্ভূত দাগ ; প্রথম একটি, গরে ছুই তিনটি অচল ক্ষুদ্র টিকৃটিকি তীক্ষ দৃষ্টি-সহকারে আমাকে নিরীক্ষণ করিতেছিল। ঘরের আশ-পাশের দীর্ঘ ঢাকা -বারাপায় ক্ষীণদেহ কোমলাঙ্গ বাঙ্গালী সিংহলী ভৃত্যের পাল নিঃশবে ও. ত্স্তভাঁবৰে যাতায়াত করিতেছে দীর্ঘকায় গুরুভার-দেহ যুরে।- পীয়দিগের নিকট, এবং যে মকল প্রশান্ত পেশীবহুল ইংরাক্জ সারাহ্-পরিচ্ছদ পরিধান. করিয়া, ঝকৃবকে ফিল-দেওয়া সাদা কামিজ বুকের নিকট বাহির করিয়া, মানব অপেক্ষা যেন কোন উত্কষ্টতর ছুরধিগম্য জীব এইরূপ ভাণ ভাবভঙ্গী-সহকারে নেই বৃহৎ ভোজনশালায় প্রবেশ করিতেছিল,_-তাহাদিগের নিকট ভূত্যের! অত্যন্ত বিনয়াবনত।৮

কান্দিনগরে যাইবার সময়ে রেলগ্াড়িতে. ইঙ্গ-বঙ্গের স্তা় একজন ইংরাজ বেশধারী ইঙ্ষ-সিংহলীর সহিত গ্রন্থকারের আলাপ হয়। তিনি বলেন,__“কান্দিতে যাইবার জন্য ট্রে ধরিলাম, এবং গাড়ির মধ্যে একজন দিংহলী “জেন্টল্ম্যানের, সহিত আলাপ হইল। এই “জেন্টল্ম্যানটি” অতি সুসভ্য ; তাহার টুয়িডঃ-কাপড়ের ফতুয়ার পরিধানে কোন খুঁৎ নাই, এমন কি, একজন লগুনের 'ম্যাশর তাহ পরিয়া গর্বান্থুভৰ করিতে পারেন। তাহার বোদামের ছিদ্র “জাডিনিয়া” পুষ্পে ভূষিত ) তাহার প্দদ্ধয় কেবল, সাঁদ। সরু, কষা পায়জামার মধ্যে আবদ্ধ। তাহার মুখশ্রী। প্রায় ফুরোপীয়। বরং একজন ইটালিয়ান তাহার অপেক্ষা অধিক ক্ষীণদেহ, কোমলাঙ্গ রৌদ্রদপ্ধ। তীহার মুখা- বয়ব-সকল বহিরুনুখ 'ও স্থিময়। তাহার চকচকে শক্ত কালো

১২ ভারতবর্ষে।

কৌকুড়া দাড়ি। সওয়! ঘণ্টা নীরৰ্তার পর, যুরোগের রেল- গাড়িতে যেরূপ হইক। থাকে, সেইব্নপ কথাবার্ধা আরম্ত হইল তিনি আমাকে দেশলাই-বাক্‌ন দিবার জন্ত উদ্যত হইলেন এবং বলিলেন, বড় গরয় হুইতেছে। ইংরাম্ধের দেশে শীতোত্তাপের কথা পাড়িয়াই আলাপের প্রথম স্বাত্রপাত্ত হয়, এবং ছুই জনে আলাপ করিতে হইলে, কথার আর্তে এই গৌরচন্দ্রিম। নিতা- স্তই আবশ্যক। এক্ষণে তিনি কতকগুলি নুস্প্ কথায় দিংহল দ্বীপের লোকসংখ্যা, শাসন প্রণালী ধন্ম আমাকে বুঝাইয়া দরিলেন। ক্রমশঃ তই তিনি বলিতে লাগিলেন, তাহার কথা- রার্তায় আমার ধারণা হইজ, ইংরাজি ছাঁচের ছাপ তাহাতে কতটা! গভীর বসিয়াছে। তিনি আশ্চর্য্য বিশুদ্ধতার সহিত ইংরাজি ভাবায় কথা কহেন--তাহাতে কোনপ্রকার অবথ উচ্চা- রণের টান আছে বলিয়া অনুভব হয়না। ইনি খুষ্টান্‌, কৌন্থুলি এখানকার ব্যবস্থাপক সভার সভ্য। ইনি বেরূপ দ্বণামিশ্রিত কপাকটাক্ষ-মহকারে সিংহলবাসী চায়াদিগের অজ্ঞত! পৌত্রলিকতার কথা বলিলেন, তাহা ইংরাঁজ উপনিবেশিকেরই মুখে শোভ। পায়। তবে, তিনি বপিলেন, পঞ্চাশ বতলরের মধ্যে অনেকটা পরিবর্তন হইবে) ইতিমধ্যেই রেল-গাড়ি অনেকটা ভাল কাজ করিয়াছে; লৌহ্পথের সম্মুখ হইতে অনভ্য প্রদেশসকল যেন পিছু হুটিরা যাইতেছে। কলম্বোতে আম্রা কলিকাতা, বোম্বাই বারাণনীর ন্ার বিশ্ববিগ্ঠালয় স্থাপন করিতে ইচ্ছুক হুইয়াছি এবং কিছুকাল পরে ষখন আমর! উপযুক্ত হইব, জাতীয় নির্ব্বাচন- মূলক পার্লামেণ্ট সভা প্রবন্তিত করিবারও আমাদের ইচ্ছা! আছে। তাহা অবশ্য অল্পে অন্নে ক্রমশঃ হ্ইবে। ব্রিটিশ-সাম্রাজ্য হইতে আমরা একেবারে বিচ্ছিন্ন হইতে চাহি না_কারণ ইংলগ্ডের

কলিকাতী, দাজ্জিলিং সিংহল। ১৩

প্রসাদেই আমর! সভ্যজগতে প্রবেশ করিতে সমর্থ হইয়াছি। আরও এই কথ! বলেন যে,,তিনি আধ্যজাতীয়” ; এবিষয়ে তাহার এতটা রব ধিশ্বাস, যেমন আমার ধরব বিশ্বাস আমি ফরাসিস। সুতরাং তনি আপনাকে সকল যুরোপীয়দিগের সমকক্ষ এবং অনেক মুরোপীয়দিগের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলির মনে করেন। যাহাই হউক, ইনি বড় বেশী রকম ইংরেজ; প্রত্যক্ষ দেখা যায়, ইহার নিকট, ইংরাজই যেন মানবজাতির উত্কষ্ট আদশস্থল। কিন্তু ইংরাজের এতট। অবিকল কাপি' বা অনুলিপি আদলে স্বাভাবিক নহে। তাছাড়া, তাহার পরিহিত সাদ। পায়জামা এবং দেই এপিয়াবাসী- ন্থলভ মুখঞ্জার দু-এক পৌঁচ যাহা তাহার মুখে জীজল্যমান, তাহার সহিত এই দসস্ত মুরাপায় বাহাড়ম্বর একটু বিসদৃশ বলিয়! মনে হয়। আদল কথা, একজন লম্ষিতবেণী নীল রঙ্গের আল- থাল্লা-পরা চীনেম্যান্কে ভাল লাখে, তবু জ্যাকেট-পরা বিলাতী টুপীপর1 জাপানীকে ভাল লাগে না। এই সকল পীত কষণচর্ম্- ধারী লোকের! যেন্ূপ আন্চর্য্য নিপুণতার সহিত আমাদিগের অন্থকরণ ফরে তাহাতে একটু সন্দেহ জন্মে) মনে এই প্রশ্ন উপস্থিত হয়, এই অনুকরণ গুধু উপরি-উপরি ভাঙা-ভাদা, না, তাহ ছাড়াইয়া আরও কিছু দূর যায়?-_বাস্তবিক মূলে কি সেই মোগল কিম্বা কাফির রহন্ত প্রচ্ছন্ন নাই ?_-এই ব্যক্তি যেরূপে ঠাণ্ডাভাবে বাক্যোচ্চারণ করেন, ইহার চীল্-চোল্‌ যেরূপ খটুথটে অনম্য-_ ইনি যেরূপ সবিলম্ব আগ্রহ-শুগ্ত তাচ্ছিল্যভাবের ভঙ্গী-সহকারে সাদ! ঝিন্থুকের বাঝ্স হইতে পিগারেট চুরোট বাহির করেন,তাহাতে আমি ইহীর প্রত্যেক ধরণধারণে আশ্চর্য্য হইতেছি।”

গ্রন্থকার পগ্ডিচারিতে যখন পৌছিলেন, তখন তাহার একজন ৃহ্যাত্রী ফরাসী-গবর্ণমে টর উচ্চপদস্থ কর্মচারী জাহাজ হইতে

১৪ ভারতবধষে |

নামিতেছিলেন। এই কর্মচারীকে অভ্যর্থনা করিবার জন্ত পঙ্ডচারির দেশীয় ফু/রাপীয় তাবৎ অন্ত্ান্ত লোক সমবেত হইয়াছিল আমাদের দেশে গবর্ণর প্রভৃতিকে অভার্থনা করিবার সময় যেরূপ গৈন্তাশ্রেণী রাজপথে দীড় করাইয়া দিয়া, বিজয়তোর নির্মাণ করিয়া মহাসমারোহে নানা অনুষ্ঠান করা হয়, এখানেও তৎ্সমস্ত অনুষ্ঠিত হইয়াছিল- তবে, প্ডিচাঁরিতে ফরাসী গবর্ণ, মেণ্টের তিন শত মাত্র সৈন্ভ। এই তিন শত সৈন্ত লইন্বা অলীক যুদ্ধ প্রদর্শন কর! নিতান্ত ছেলেখেলা! বলিয়া মনে হয়। গ্রন্থকার বিজ্রপের ভাঁবে বলেন যে, এই সমারোহের সময়ে & দমকল সৈনি- কেরা বন্দুকের গু'তার দ্বার! দেশীয় লোকদ্িগকে সরাইয়া দিতে যুরোপীয় দেখিলেই সমন্ত্রম পথ ছাড়িয়া দিতে ত্রুটি করে নাই। সেই নবাগত উচ্চপদস্থ কর্মচারীর নিকট পগ্ডিচারির বনু মন্্ান্ত ব্যক্তিদিগের দস্তর-মত পরিচয় দাঁন এবং রাঁজকন্মচারীদিগের সম্মিত বদনমণ্ডলের ভাব প্রভৃতি গ্রন্থকার বর্ণনা! করিয়াছেন যখন সেই পরিচয়দানের অনুষ্ঠান হইতেছিল, মহ! জাঁকজমক করিয়া একজন দেশীয় মন্তাস্ত ব্যক্তি নবাগত কর্মচারীর নিকট আপিয়! মস্তক নত করিল। ইহার হস্তে একটি রৌপ্-দগড ছিল। পূর্বকালের ইংরাজ-ফরাসাধুদ্ধে, ফরাসীদিগের যখন কামানের গোলা ফুরাইয়া যায়, তখন এই ব্যক্তির পূর্বপুরুষের! রাশি-ব্রাশি খনিজ স্বর্ণপিও্ গোলারূপে ব্যবহার করিবার জন্ত ফরাদীদিগকে দান করিয়াছিল। তাই তাহার প্রতিদান-স্বরূপ ফরানী গবর্ণমে্ট তীহার সম্মানার্থ একটি রৌপ্য'দণ্ড বকৃসিস্‌ করেন। ইহা নিংস্বার্থ রাঁজভক্তির একটি জলন্ত দৃষ্টান্ত

গ্রন্থকার এদেশীর স্ত্রীলৌকদের গঠন-সম্বন্ধে এইরূপ বলেন। “এই মকল স্ত্রীলোক সাঁদাধিধা অথচ জমকাল পরিচ্ছদ পরিধান

কলিকাত।) দাঞ্জিলিং দিংহল। ১৫

করে। ইহীরা খন চলা-কেরা করে তখন যেমন চক্ষের তৃপ্তি হয়, এমন আর কিছুতে হয় না। মাথায় পিতলের ঘড়া লইয়। যেরূপ ইহারা পশ্চাতে একটু হেলিয় সটান-ভাবে দণ্ডায়মান হয়, তাহাতে তাহাদের সুন্দর গঠন-রেখাগকল দিব্য প্রকাশ পায়। বিচিত্ররঙের উজ্জলত! সত্বেও, উহাদিগকে দেখিয়! পুরাকালের গ্রীক রমণীদিগকে মনে গড়ে। দেই একই প্রস্তরমূন্তিবৎ দেহভঙ্গী, সেই একই অঙ্ভঙ্গীর প্রশান্ত তাঁব__সেই একই মুক্ত বাযুতে জীবন- যাপন--মেই একই ছ্োট-ছোট মুন্তিকা-নির্মিত ঘরে বাস। এই সকল ঘর নিয়, ঠা, সাদা ধব্ধবে, চৌকোণা। আসবাব-বির- হিত) এবং তাহাদের ছারায় বসির রূমণীগণ স্থৃতাকাট কার্যে নিযুক্ত |”

গ্রন্থকার পঞিচারিতে ডুপ্নের প্রস্তরমৃত্তি দেখিয়াছিলেন, এবং তাহার উল্লেখ করিয়া তিনি এই কথ! বলেন, “একজন ইংরাজ আমাকে বলেন, ডরগ্ন একজন খ্যাতনামা ব্ক্তি-তিনি আমাদের কিছু কষ্ট দিয়া গিয়াছেন। শীঘান্ত-গ্রাদেশের চতুর্দিকে শুন্ধ-মাদী- য়ের আড্ডা স্থাপন করিতে আমরা বাধ্য হইয়া, এবং আমাদের যত চোর মব পলাইয়| তোমাদের ওখানে বাদ করে। এই উপ- নিবেশটি রাখিয়া তোমাদের কি লাভ? একজন ফরাদিন্‌ তাহাৰ উত্তরে এই কথা বলেন,-_লাভ আর কিছুই নয়, ইহার অর্থ এই মাত্র, ভারতবর্ষে ডূপ্পের একটি প্রস্তরমু্তি থাকা আবশ্যক এবং তাহা উহার নিজ স্থানেই স্থাপিত হওয়া! গ্রার্থনীয়।”

১৬ 'ভারতবর্ষেন

পিংহলে বৌদ্ধধর্ম (৩)

ফরাঁসিস্‌ পর্যটক আন্দে শেত্রিয়ো! পিংহলবাসী বৌদ্ধদিগের আচার ব্যবহার ধন্মান্ষ্ঠানের বিষয় যাহা বর্ণনা করিয়াছেন, তাহা হইতে বৌদ্ধধর্মের নারাংশ বেশ অল্পের মধ্যে জানা যায়। তিনি বলেন, “এই কান্দি পিংহলের একটা পুরাতন নগর-- সিংহল-রাজদিগের পুরাতন রাছধানী। এই স্থানে বড় বড় তালবুক্ষের নীচে কুষ্জাত লিল একটি সরোবর আছে-_তাহার ধারে রাজাদিগের পুরাতন প্রাসাদ অবস্থিত প্রাসাদের সন্গি- কট, সেই মঝাল-প্রতিবিস্বিত কৃষ্ণ সরোবরের ধাঁরে একটি পুরা- তন বৌদ্ধ মন্দির প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের দ্বারদেশে যে তিনটি বিকট অদ্ভুত মূর্তি রহিয়াছে তাহার অর্থ কি? আর, এই বৌদ্ধ পুরোহিতের, যাহারা মন্দিরের মর্র-শোভিত দালানের উপর দিয় ক্রমাগত ঘাতায়াত করিতেছে, ইহারা না-জানি সমস্ত দিন কি চিন্তা করে? মুণ্ডিত-মন্তক, থালি-পা, গেরুয়া'বসনের মধ্য হইতে একট হাত বাছির-করা, এই বৌদ্ধ পুরোহিতের মন্দিরের বাহির-দালানে নিঃশব্দে গমনাগমন করিতেছে ইহাদের মুখে একটি রহদ্যময় অবর্ণনায় মধুর হাস্য সর্বদাই বিরাজমান। আমার পাণ্ডা আমাকে মন্দিরের কেন্ত্রবন্তী একটি বৃহ প্রাঙ্গনে লইয়! গেল। যে বো*বুক্ষ ধানমগ্র শাক্যমুনিকে পাঁচ বৎসর কাল ছায়] ধান করিয়াছিল, তাহারই একটি চারা এই প্রাঙ্গনে প্রতি- চিত। এই বৃক্ষের তলদেশে আমি নীত হইলাঁম। স্ুধীরে মস্তক ঈষৎ অবনত করিয়া সেই পাণ্ডা আমাকে সেই বৃক্ষ হইতে একটি পাতা ছিড়িয়া দিল। কান্দিমঠের মঠধারী আচার্ধা

মিংহলে বৌদ্ধধর্ম

শ্ীনুমঙ্ষন অত্যন্ত বিজ্ঞ স্ুপঙ্ডিত; ইনি আমাদের যুরোপের সমস্ত বিষয় জানিনার জন্ত উত্স্থক এবং আমাদের চিন্তাশীল লেখকদিগের বিজ্ঞানবাদ এবং দর্শন নীতিতন্থের ভাব দেখিয়া মনে করেন যে, তাহারা বৌদ্ধধর্মের অনেকটা নিকটবর্তী হইয়া- ছেন। আবঘণ্টা কাল ইনি আমার সহিত বাক্যালাপ করিলেন বৌদ্ধধর্মের প্রধান প্রধান গ্রন্থনকলের উল্লেখ করিলেন। বৌদ্ধেরা কিরূপে জীবনবাত্র! নির্বাহ করে তাহার কতকট। ভাৰ তাহার কথাবার্তায় জানিতে পারা গেল। |

বৌদ্ধদিগের মধ্যে হই শ্রেণী; এক অভিনবব্বতী সামান্ত ভিক্ষু, জার এক বৌদ্ধপুরোহিত শ্রমণ--এই শ্রমণেরা আপনার ইচ্ছাকে বশীভূত কন্সিতে শরিখিয়াছে। এই আত্মবশীকরণ-রূপ চরম লক্ষ্য সাধন করিবার জন্য ইহারা “পিতৃমোক্ষ” নামক গ্রন্থের উপদেশ অন্ুদরণ করিয়া থাকে ইহা বৌদ্ধধন্ম্ের একটি পুরাতন ্ন্থ। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আটটি বস্ত গ্রহণ করিতে পারে; তিনথানি পরিধান বন্ত্রর একটি কটাবন্ধ, একটি কমণডলু, একটি ক্ষুর, একটি ছু'চ, পানীয় হুইতে কীটাদি জীব ছাঁকিয়া৷ ফেলিবার জন্ত একটি ছাকুনি। মঠের অত্যন্তরে এই দারিদ্র্-ব্রতের খু'টি- নাট দমস্ত নিয়ন বথাশান্ত্র পরিপালিত হয়। নবব্রতী ভিক্ষু অরুণোদয়ের পূর্বে শা হইতে গাত্রোখান করে, নিজ পরি ধানবস্্ব ধৌত করে, মন্দিরের দালান বোধী বৃক্ষের (বট) চতুপপার্্থ ভূমি ঝট দেয়, সমস্ত দিনের পানীয় জল উত্তোলন করিস তাহা ছাঁকিয়া রাখে) অবশেষে একটি নিজ্জন স্থানে গিয়া ধ্যান করে। পবিত্র বোধা-ুক্ষের সন্বুথেঞপুষ্পাঞ্জলি প্রদান কররয়া বুদ্ধদেবের মহৎ গুণসকল এবং নিজের ক্রুটি দোষের বিষয় চিন্তা করে; পরে, কমগুলু হস্তে লইয়., নিজ গুরুর

ভারতবর্ষে

সমভিব্যাহারে তিক্ষার্থ বহির্গত হয়। উহার মুখ ফুটিয়া কিছুই চাহে না-_কেবল লোকের দ্বারে স্তব্ধবভাবে ধ্াড়াইয়1 থাকে। গৃহে প্রত্যাগত হইয়।,!ুনবব্রতী তিক্ষু গুরুর চরণ প্রক্ষালন করে, কম- গুলু ধোত করে, চাউল পিদ্ধ করে এবং বুদ্ধের বিষয়-_বুদ্ধের দয়! ওঁদার্য্ের বিষয় চিন্তা করে। এক ঘণ্ট। পরে, একটি প্রদীপ আলাইয়। শিক্ষ-গৃহে প্রবেশ করে-__পুরাতন পাখুলিপির নকল করে, কিম্বা গুরুর পদতলে বসিয়া তাহার উপদেশ-বাক্য শ্রবণ করে এবং দিনের মধ্যে যে সকল দোষ করিয়াছে তাহা তাহার নিকট প্রকাশ করে। পুরোহিত-শ্রেণীর বৌদ্ধদিগকে কোনপ্রকার শারীরিক শ্রম করিতে হয় না) তাহারা ধাঁন ধারণায় অনেকট। ॥ময় নিয়োগ করিতে পারে; কিন্তু তাহার প্রার্থনা করে না) কারণ, বৌদ্ধধর্ম, কোন দেবতার সাহাধ্য চাহে না। ছুঃথকষ্ট ইইতে অব্যাহতি পাইবার জন্য উহারা নিজের উপরেই নির্ভর করে। মস্পিনোজা ্টোয়িক-সম্প্রদায় যে উপায় অবলম্বন করিতে উপদেশ দিয়াছেন ইহারাও সেই উপায় অবলম্বন করিয়। থাকে। সর্বপ্রকার জীবের সমষ্টিকে ধ্যান করিবার জন্য ইহার! ক্ষণস্থায়ী 'আমি,-কে ভুলিয়া! যায়। গাঁচ প্রকার ধ্যানের দ্বারা ইহারা সমস্ত জগংকে চিন্তা করে। প্রথম ধ্যান, “মুক্তি-ভাঁবনা”। সমস্ত কষ্ট, রিপুর উদ্বেগ, অনৎ বান! হইতে মুক্ত হইলে আমি যেমন নিজে সী হইতে পারি বলিয়! মনে করি, সেইরূপ সমস্ত জগতের জীবঞ্র প্রকারে সুখী হউক্‌ এই কামন1 করা প্রথম ধ্যানের বিষয়। এমন কি, শক্র হইলেও কেবল তাহার গুণের ভাগ গ্রহণ করিয়1, আমি ষে স্ুঞ্জ নিজে চাহি, দে সুখ যেন সেও পায় এইরূপ কামন! অকপট ভাবে করিতে হইবে।

দ্বিতীয় ধ্যান -'করুণা ভাবনা, | সমস্ত জীব যে কষ্টনন্তরণ।

সিংহলে বৌদ্ধধর্ম ১৯

ভোগ করিতেছে তাহ! মনে করিয়া, আপনার অন্তরে সেই কষ্ট জাগ্রত করিয়া তুলিতে হইবে _-ইহাই দ্বিতীয় ধ্যানের বিষয়।

তৃতীয় ধ্যান-_“মুদিত-ভাবন1 যে সকল্প জীব স্থখী, কিন্বা মনে করে তাহার] সখী, তাহাদের বিষয় চিন্তা করিয়া এইরূপ কামন! করিতে হইবে ষাহাতে অন্টেরাও তাহাদের মত সুখী হয়, এবং তাহাদের স্থথে যাহাতে আপনাকেও সুখী মনে করিতে পারি এইরূপ চেষ্টা করিতে হইবে

চতুর্থ ধ্যান-অণ্ডভ-ভাবন1। শরীরের হীনতা, অশুচিতা, রোগের ভীষণ যন্ত্রণাদকল মনে করিয়! এইরূপ ভাবিতে হইবে £-- সাগর-সন্ভুত ফেনপুঞ্জের হ্যায় সমস্ত ছুঃখকষ্ট তিরোহিত হয়, অনস্ত জন্মমৃত্যুর পারম্পর্ধা বশতই উহাদের অস্তিত্ব, এই জন্ম- মৃত্যুর পারম্পর্য্ে বান্তবিকতা৷ কিছুই নাই-_-উহা! অলীক আবির্ভাব মাত্র শেষ ধ্যান_-'উপেক্ষা-ভাবন।+ | যাহা কিছু মানুষ ভালমন্ৰ বলিয়া মনে করে, যাহা কিছু ক্ষণনস্থায়ী,_স্বতন্তরতা, পরতন্ত্রতা, প্রেম ছেষ, প্রশ্ব্যয দারিদ্রা, যশ অপযশ, রপযৌবন, জরা. রোগ, এই সমস্ত, নিতান্ত উপেক্ষার সহিত, সম্পূর্ণ প্রশান্তভাবে চিন্তা করিবে। -* ৮৮৮ কান্দি নগরের যতই নিকটবন্তী হইতে লাগিলাম ততই দেখি পথ লোকে লোকাঁকীণ্। রাত্রিকালে, স্্রীপুরুষ দলে দলে নগরাভিমুখে আগ্রহের সহিত গমন করিতেছে নিস্তন্ধতার মধ্যে বৌদ্ধ পুরোহিত এক প্রকার সুর করিয়া! জঙ্গলের ঘরের লোৌকদিগকে ডাঁকিতেছে, আর অমনি লোকসকল পিল্‌- পিল্‌ করিয়া কোঁথ! হইতে যে বাহির হইতেছে বোঝা ফায় না-_ বড় বড়, গাছে ঢাকা, ঝোপ্ঝাপের মধ্যে ফেসকল' গৃহ ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত রহিয়াছে, মনে হয়, যেন তাঁহা' হইতেই তাহারা নির্গত হইন্তেছে। যে সকল ওক্তের দল নিস্তব্ধতাঁবে পুর্পভার হস্তে

২০ ভারতবর্ষে

লইয়া চলিতেছিল, সেই গভীর অন্ধকার রাত্রে আমিও অৃশ্য- ভাবে তাহাদের সঙ্গে মিশিক় গেলাম। কাসর ঘণ্টার রবে নগর পরিপূর্ণতা ছাড়া আর কোন শব শোন] যায় না। সেই কৃষ্ণ সরোবরের ধারে, মন্দিরের বৃহৎ দ্বারের নীচে সেই বিকট মুর্তিগুলি চিরজাগ্রত, এবং মন্দ্রস্থিত উদ্যানের প্রবেশ-পথে পুরোহিতের। নিস্তন্ধভাবে দণ্ডায়মান কোনপ্রকার অঙ্গত্গী না৷ করিয়া! নীরবে ভক্তদিগের পুষ্পাঞ্জলি গ্রহণ করিতেছে একট। রৌপ্যময় গরাদের নীচে দিয়া আমরা চপিলাম এবং তৎপরেই একটা ছায়াময় বড় দালানের মধ্যে গিয়! পড়িলাম। সেখানে ছোট ছোট পবিত্র দীপ- সকল একপ্রকার রহস্যময় অস্ফুট আলোক বিকীর্চ করিতেছে। শত শত ধৃপাধার হইতে সুগন্ধী নীলাভ ধৃমরাশি উদ্ধে প্রসারিত হইয়। স্থিরভাবে উপরে ভাসিতেছে। এই গুরুভার, নিদ্রাকর্ষক ধূপধূমের গ্রভাবে সমস্ত দৃশ্যটি কেমন এক প্রকার অবাস্তব অল কিক আকার ধারণ করিয়াছে। অন্ধকারের মধ্যে বুদ্ধদেবের বিবিধ মৃত্তি হইতে ছায়া পড়িরা ইতস্ততঃ অর্দন্কুট ভাবে দেখা যাইতেছে কোন বুন্দমুত্তি শয়ান, কোন বুদ্ধমুত্তি আসীন--সকলের তলদেশে পুষ্পরাশি বিকার্ণ। আমরা একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন সিড়ি দিয়া উঠিলাম, তাহার ধারসকল অগ্নিকুণ্-নিক্ষিপ্ত কোলাহলময় দ্রানবদৈত্যের চিত্রে চিত্রিত। উপরে একটি রৌপ্যময় গরাদের গশ্চাতে পুরোহিতের দর্ডায়মান_-ভক্তেরা তাহাদের পুম্পোপহার একটি বেদীর উপর রাখিতেছে, আর সেই পুষ্পোপহার পুরোহিতের! গ্রহণ করিতেছে সেই নীরব তক্তদলের সম্মুখে, একটি সুন্দর যুবক পুপোপহাবুহন্তে স্থিরভাবে দণ্ডায়মান। মূর্তির সম্মুখে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করিয়া মে অনেকবার নতাঁশর হইল। এইথার অদ্ধনত হইয়া বঙ্গের উপর ইন্তপুগণ স্থাপন করিয়া খানিকটা স্থির-

সিংহলে বৌদ্ধধর্ম ২১

তাবে রহিল। তাহার স্ুবক্র সুন্দর ওষ্ঠে তাহার দীর্ঘায়ত সুন্দর নেত্রে, রহস্যময় মধুর প্রশান্ত হাস্য বিরাজমান | *** নিজ্ত- বত| আরও ধেন গুরুভার হইয়া উঠিল) কিয়ৎকাল পরেই সহস! তুরী ভেরীর গভীর নিনাদে সেই নিস্তব্ধতা ভঙ্গ হইল। কিন্তু জনতণর মধ্য হইতে কোন শব্ধ নাই। পবিত্র দীপাবলীর নিষ্নে, পুষ্পরাঁশির পশ্চাতে, পুরোহিতের গম্ভীর ভাবে দণ্ডায়মান

মন্দিরের বিজন অন্তরতম প্রদেশে, পুরোহিতদিগের পশ্চাতে পবিত্র স্থানে, যোগাসনে উপবিষ্ট একটি বৃহৎ স্কট কমূর্তি স্থাণিত__ তাহার অবয়ব-রেখানকণ অস্পষ্ট মূর্তিটি এপ স্বচ্ছ যে, উহ্থাকে উগছায়া বলিয়া মনে হয়_মনে হয় বেন জড়ভাব হইতে মুক্ত কোন অশরীরী আত্মা। যে মহাপুরুষ কঠোর সমাধিবলে আপন এক্তম।ংসের বন্ধন, কামনার বন্ধন সকল ছিন্ন করিয়াছিলেন, ইহা তাহারই উপযুক্ত মূর্তি বটে! এই মুর্তি জনদাধারণকে শাসন করিতেছে, অথচ কোলাহলময় মন্ুষ্যের জনতা হইতে দূরে অবস্থিত_-এবং ইহার স্বচ্ছ ওট্ঠাধরে থে অন্ত মধুর হাস্য বিরাজ- মান তাহাতে মনে হয়, ষাহার এই মুর্তি তিনি চিরকালের মত শান্ত-ধামে প্রবেশ করিয়াছেন।

যতই আমি এই দেশ দেশের লোকদ্িগকে দেখিতেছি ততই যেন আমি এই ধর্শ ধর্মনীতি বুঝিতে পারিতেছি। আজ যাহা? আমাদের যুরোপীয় পগ্ডিতেরা বলিতেছেন, ত্রয়োবিংশতি শতাব্দী হইতে বৌদ্ধমুনিরা তাহাই শিক্ষা দিয়া আসিতেছেন। তাহারা বলেন, কিছুই নাই--সকলই হইতেছে। এই জগৎ ক্ষণস্থায়ী আবির্ভাবের প্রবাহমাত্র--পরিবর্তন ব্যতীত ইহাতে আর কিছুই স্থায়ী নহে। পৃথিবী, আকাশ, অষ্টাদশ নরক, দানবগণ তাহা- দের নিবাসভূমি নিকৃষ্ট পোক'সকল, সকলই নদীর জগের ন্যায়

২২ ভারতবষে

প্রবহমীন। একটার পর আর একট1_-এইরূপ ক্রমান্বয়ে এক কালচক্রের পর আর এক কালচক্র, এক যুগের পর যুগান্তর পুনরাবৃত্ত হইতেছে। এই শ্রেণীপরম্পরা অনন্ত-_ইহ1] কন্মিন্‌ কালেও আরম্ত হয় নাই, এবং কম্মিন কালেও ইহার শেষ হইবে না। এই জগতের মধো “মন্তব্য, পদার্থটা কি?-চিন্তাশীল জীব বটে, কিন্তু অন্ান্ত জীবেরই মত, অর্থাৎ কিছুকালের জন্ত কতকগুপি শক্তি একাধারে সমবেত হইয়াছে-_কিছুকাল পরেই উহা বিক্ষিপ্ত বিলীন হইয়া যাইবে। মমন্ুষ্য” কি!?_এমন কতকগুলি বৃত্তি, ভাব, কামনা, ইচ্ছা, সং- স্কারেগ সমষ্টিমাত্র যাহাদিগের মধ্যে কিছুকালের জন্য যোগ শৃঙ্খলা রক্ষিত হইতেছে শরারের মধ্যেও এইরূপ কোষাণু সকল অনুক্ষণ মরিতেছে, জন্মিতেছে, অথচ সমগ্র শরীরের গঠন কিছুকাল সমান ভাবেই থাকিতেছে। মন্তুষোর মধ্যে কিছুই স্থায়ী নহে। জীবনের ঘটনাসকল-_ধাহা কোন নির্দিষ্ট নিরমানুলারে একত্র হইতেছে পরস্পরকে অন্ুদরণ করিতেছে এবং যাঁহ। অইয়াই মনুষ্যের ব্যক্তিত্ব-সেই ঘটনাগুলিও স্থায়ী নহে) কিন্বা। যে নিদ্দিঘ নিয়মে এই ঘটনাগুলি ঘটিতেছে তাহারও বৃদ্ধি হ্রাস হইয়! ধীরে ধীরে পরিবর্তন হইতেছে যে সকল উপাদানের সমষ্টি লইয় প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব তাহ! পঞ্চস্কন্ধে বিভক্ত ; এবং বৌদ্ধের' তন্ন তন্ন করিয়। দেখাইয়া! দ্রেন যে, এই স্বন্ধগুলির মধ্যে কোন স্বন্ধই অথবা কোন উপাদানই স্থায়ী নহে। প্রথম স্ন্ধে ভৌতিক পদার্থের গুণসমূহ-_যথা বিস্তুতি, গভীরতা, বর্ণ ইত্যাদি; ইহার! সাগরোৎপন্ন ফেন্রাশির ন্যান্ধ উৎপন্ন হইতেছে উৎপন্ন হইয়াই পুনর্বার তিরোহিত হইতেছে দ্বিতীক্ষ স্কন্ধে ইন্দ্রিয় বোধদমূহ-_ ইহারাঁও জলোপরি-নৃত্যশীল বিশ্ববৎ। তৃতীয় স্কন্ধে জ্ঞান

সিংহলে বৌদ্ধধর্ম! ২৩

বুদ্ধিবৃত্তি; ইহারাও দক্ষিণ প্রদেশের অনিশ্চিত মুগতৃষ্ণিকাসম চতুর্থ স্কন্ধে মানসিক নৈতিক সংস্কারসমূহ__-ইহা কদলীকাণ্ডের হ্তায় অপার। শেৰ কথা, চিস্তামকল উপছায়ামাত্র_পরন্রজাপিক মায়ামাত্র গৌতম বলিলেন, হে ভিক্ষুগণ, ভিন্ন ভিন্ন মতাবলম্বী পণ্ডিতেরা থে ভাবেই আম্মাকে চিন্তা করুন না কেন, এই পঞ্চ স্কন্ধের অন্ততম স্কন্ধকে, কিন্বা তাহাদের দমষ্টকেই তাহারা আত। বলিয়া কল্পনা করেন। এই প্রকারে, হে ভিক্ষগণ, যাহারা বৌদ্ধ হয় নাই, কিন্ব1! যাহারা বৌদ্ধধন্ম বুঝিতে পারে না, তাহার! কখন মনে করে, আম্মা ভৌতিক গুণ একই ; কখনও বা মনে করে, আত্ম! ইন্রিয়-বাবধ একই ) এই গ্রকারে আত্মাকে অপর শেষ তিনটি ক্কন্ধরূপেও কল্পন। করিয়া খাকে। এই প্রকারে, একটার পর আর একটা! স্বদ্ধ কল্পনা করিয়া, অবশেষে এই সংস্কারটিতে উপনীত হয়--সে কি?- না, আমি আছি, আমার আত্ম আছে; আমি থাকিব কিম্বা আম থাকিব না) আমার ভৌতিক গুণ থাকিবে কিন্বা থাকিবে না? মামার সংস্কার সকল থাকিবে কিন্ব। থাকিবে না। কিন্ক বুদ্ধের জ্ঞানবান শিষ্েরা, পঞ্চেক্িয়ের অধিকারী হইলেও তাহার অজ্ঞান হইতে মুক্ত এবং তাহারা সত্যে উপনীত হইয়াছেন। সেইজন্য তাহাদের সংস্কার অন্তরূপ ; -আঁমি আছি, আমার আত্মা আছে, আমি থাকিব কিম্বা থাকিব না, এবন্বধ সংস্কার তাহাদের মানসক্ষেত্রে উপস্থিত হয় না ডেকাট বলিয়া- ছেন, আমি চিন্তা করিতেছি, অতএব আমি আছি। কিন্তু বুদ্ধদেব হইলে এইরূপ বলিতেন ; -আমি চিন্তা করিতেছি, অতএব আমি নাই। কারণ, চিন্তা কাহাকে বলে? কতকগুলি পরিবর্তনপর- ম্পরা_-বিভিন্ন ঘটনার পারম্পর্ধ্য ভিন্ন ইহা আর্‌ কিছুই নহে। আধুনিক মন্তত্ববিৎ পণ্ডি নদিগের এই মত। ইংলণ্ডের জন

২৪ ভারতবতর্ষ।

&য়র্ট নিল এবং ফাঁন্সের টেন এই বিষয় অন্ধুশীলন করিয়। এই স্থির করিয়াছেন যে, ইহা একপ্রকার কল-কৌশল যাহাতে করিয়া “আমি” বলিয়া একট। পদার্থ আমাদের মধ্যে আছে এইরূপ বিভ্রম উৎপন্ন হয়। বৌদ্ধেরা বলেন, এই ভ্রমটি সর্বাপেক্ষা হানিজনক, আমাদের ফাঁদে ফেলিবার একটি প্রধান উপায় ; কারণ এই বন্ধনেই আমর! বিষয়ের সহিত আবদ্ধ আছি--এই মুগতৃষ্তাই - আমাদিগকে শান্তি উপেক্ষা হইতে বিচ্ছন্ন করিয়া কার্্যক্ষেত্রে নিক্ষেপ করে আমাদিগকে ক্রমাগত স্মুখ ঠেলিয়! লইয়া! যায়। বৌদ্ধের! ইহাকে ব্যক্তিত্বর্ূপ বিভ্রম বলেন।

একবার বদি স্বীকার করা! যাঁর যে, এই জগৎ কেবল ইন্দ্রিয়া- ভাসের প্রবাহমাত্র, আমাদের অন্তরে কিম্বা বাহিরে কোন পদার্থই স্থায়ী নহে, তখন আমাদের কর্তব্য সহজে স্থিরীকৃত হইতে পারে। ঘযেণআমি' এত গুরুতব বলিয়া আমার নিকট প্রতীয়মান হইত এক্ষণে মামি তাহাকে বিভ্রম বলিয়া! জানিতেছি | ইহা জানিবামার, মনুষ্য মুক্তিনাত করে_এই “আমি' চিরকাল পুষিয়! রাখিবার জন্ত দে আর লালায়িত হয় না_সে আর কোন চেষ্টা করে না, কামনা! করে না, তাহার জীবন-ৃষ্ণ। চলিয়! যায়, সে দুঃখ হইতে মুক্ত হয়।--কারণ, দুঃখ কি?- ব্যক্তিগত অস্তিত্ব হইতেই দুঃখ উৎপন্ন হয়। আর, জন্ম, বাদ্ধকা, রোগ, মৃত্যু প্রভৃতি ঘটনাগুলি লইরাই আমাদের ব্যক্তিত্ব। মাস্', এই নকল ঘ)নার় কেন আমা- দের দুঃখ উৎপন্ন হয়? কারণ, আমিরূপ বিভ্রম হইতেই আমাদের বাচিবার ইচ্ছ। হয়, ভয় আকাঙ্ষা উৎপন্ন হয়, জর! মৃত্য প্রভৃতি দূরীক্কৃত করিয়া তাহার বিপরীত বিষয় লাভের অগ্িলাষ হয়। এই অন্তিত্বের মন্ুরাগ বদি আমাদের অন্তর হইতে নিশ্মুল করিয়া ফেলিতে পারি; ইচ্ছা কর্ধ চিন্তা হইতে বিরত হইয়া! পরি.

সিংছলে বৌদ্ধধর্ম ২৪

ধর্জনের সার্তৌমিক নিয়মের হাত হইতে যদি এড়াইতে পারি, তাহা হইলে “পরিবর্তনমূলক ছুংখ আর আমারিগের নিকট আসিতে পারে না। “যে বাক্তি এই দ্বণিত্ জীবন-তৃষ্ণাকে দমন করিতে পারে, পদ্মপত্রস্থ জলবিন্দুবৎ দুঃখ ভাহা হইতে সহজে অপসারিত হয়।,

এই পুর্ণ অবস্থা লাভের পন্থাগুলি এই )১-_প্রথম, আত্ম- বিভ্রম ক্রিয়াকলাপ অনুষ্ঠানের বিশ্বানকে বিনাশ কর1। দ্বিতীয়, মমস্ত রিপু, সমস্ত বিদ্বেষ, সমস্ত মায়া-মোহ বিনাশ কর1) তৃতীয়, আত্মান্তরাগের কোন চিহ্মাত্র না রাখা ) চতুর্থ, ধ্যানবলে মুক্তিলাভ করিয়। ভৌতিক আধ্যাত্মিক সর্বপ্রকার অন্তিত্বেব কামন| হইতে বিরত হওয়া এই স্কুলে উপনীত হইতে পারিলেই মনুষ্য যুক্ত হয়। আপনার উপর তাহার আর আস্থা থাকে না, আকর্ষণ থাকে না, অন্তের কাঁজে আপনাকে সমর্পণ করিতে পারে ওদার্ঘ্য, পরছুংখকাতরতা তাহার মনকে অধিকার করে। যেমন, মাতা, আপনার প্রাণ পর্্স্ত পণ করিয়া আপনার একমাত্র সন্তানকে রক্ষ। করে, সেইরূপ মে বিশ্বজনীন প্রেমের--অসীম পরান্থরাগের অনুণীলন করে। এই প্রেম তাহার চতুর্দিকে, তাহার উদ্ধে+ তাহার : নিয়ে বিকশিত হইয়া উঠে-__সেই বিশুদ্ধ প্রেম যাহার নহিত স্বার্থের কোন সম্পর্ক নাই। জাগিয়া গ্লাকুক, ধাড়াইয়া থাকুক, বসিয়া থাকুক, কাধ্য করুক, অথবা শয়ন করুক, সকল অবস্থাতেই সকল সময়েই এই ভাবটি তাহার মনে দৃঁ়র্ূপে নিবদ্ধ থাকে ।+--“তাহার ইন্দ্রিয় সকল প্রশান্ত হইয়াছে ; বশীভূত অশ্বের স্তায়, সে গর্ব হইতে মুক্ত_-তার অজ্ঞান-মলা বিধৌত-_দেছের উত্তেজনা, জীবনের উত্তেজন। তাহার আর অনুতব হয় না, দেবতারাও তাহার অবস্থাকে ঈর্ষা করেন “যাহার চরিত্র সবল, সে ধরার ন্তা্ অচল--স্তন্তের হ্ঠার অটল--স্ফটিক-ন্যচ্ছ সরোবরের হ্যা? গ্রশান্ত_

হ্গ তারতবর্ষে।

তাহার আর গুনর্জন নাই।/ ঘাঁহারা জান-যোগে মুক্ত হইয়া গ্রশান্ত তাহাদের বাক্য, প্রশীস্ত তাহাদের কার্ধ্য। তাহার! পর- জন্মের জন্য আকাজ্ম। করে না। জীবনের আকর্ষণ তিরোহিত হওয়ায় এবং অন্য কোন কামনা মনে উদিত না হওয়ায়, জ্ঞানীর তৈলবিরহিত দীপের ন্যায় নির্বাণ প্রাপ্ত হন।” ইহাই বৌদ্ধদিগের চরম স্থের অবস্থা। শীক্যমুনি তীহার পূর্ববর্তী ব্রাহ্মণ আচার্য্য, দিগের স্তা়, জগৎকে তলাইয়। দেখিবার চেষ্টা করিয়াছেন-যতই তলাইয়া দেখেন হাতে কিছুই ঠেকে নাহত্ত হইতে যেন সব সরিয়া যাঁয়, গলিয়! যায়; অবশেষে তাহার দৃঢ়দুষ্টিতে কতকটা শূন্য সাপটিয়া ধরিলেন। চাঁরিদিকেই মায়া বিভ্রম বিভাদিত-_চারি- দিকেই ঘটনা মকলের চঞ্চল আবর্ত__কিছুই স্থায়ী নহে। প্রকৃতি আপন উদ্দেন্ট দিদ্ধ করিবার জন্য অজ্ঞান মনুষ্যকে গ্রবঞ্চন। করিতেছে--কিন্ত জ্ঞানী তাহাতে ভূলেন ন!। তিনি নির্বাণ- শান্তির আশ্রয় লইবার জন্য এই ক্ষণস্থায়ী বিষয়-বিভ্রম হইতে দুরে পলায়ন করেন। তাহার অন্তরে তিনি এক মহাশূন্য স্থাপন করিয়াছেন--কিছুতেই তাহাকে আর বিচলিত করিতে পারে ন1। তাহার ওঠাধরে যদি কখন চাঞ্চল্যের রেখা দেখা যায়, মে কেবল বিশ্বজনীন ওদার্্য মানব-দুঃরখের জন্য অনুকল্পা'জনিত মধুর প্রশান্ত হাদ্যের ঈষৎ বিশ্কুরণ মাত্র।”

সাতে ভিত

রাহ্মণ্যশাস্ত্রের মাঁয়াবাদ অদ্বৈতবাঁদ। হই (৪) ্রাহ্মণ্যশান্ধের মায়াবাদ অদৈতবাদ।

ফরালী লেখক আন্দ্রে শেভ্রিয়ে? ভারতের মায়াবাদ সম্বন্ধে যাহা লিখিয়াছেন, তাহ! সর্ধাংশে আমাদের মতের সহিত এঁক্য না! হউক্‌, তাহার মূলে যে অনেকটা সত্য আছে কথ অস্বীকার করা যাক না। বৈদিক ষুগ হইতে মায্াবাদের সূত্রপাত হইয়া কি. করিয়া ক্রমশঃ বিস্তার লাভ করিয়াছে এবং তাহার বিষম ফল আমাদের সমাজের হাড়ে ছাড়ে প্রবেশ করিয়াছে তাহা তিনি বিশদরূপে দেখাইয়। দিয়ীছেন। একজন বৈদেশিক কিছুকালের জন্য এদেশে ভ্রমণ করিতে আপিয়া আমাদের শাস্ত্রের ম্খব ষে যথার্থরূপে গ্রহণ করিতে পারিবেন ইহা! প্রত্যাশী কর! যায় না। তবু কতকটা থে তিনি পারিয়াছেন, ইহাই আশ্চর্য্য তিনি ছুই একটা কঠোর কথ! বলিয়াছেন; তাহ! আমাদের শোন। ভাল। তাহাতে উপকার ভিন্ন অপকার নাই। অনেক সময় আমাদের নিজের দোষ ৩৭ নিজে বুঝিতে পারি না) তাহ! বাহিরের লোকের চোখে পড়ে। যাহ! হউক, তিনি যাহ! বলিয়াছেন তাহাতে একটু নৃতনত্ব আছে। তিনি বলেন, “এই অদ্বৈতবাদ যাহা ভারতবর্ষে ছুই হাঁজার বৎসর হইতে চলিয়া আমিতেছে, ইহা! কোন ব্যক্তিবিশেষের বা সম্প্রদায়- বিশেষের মত নহে। সমস্ত হিন্দুজাতি সাধারণতঃ জগৎকে যে ভাবে দর্শন করে, তাহাই দার্শনিক ভাষায় বর্ণিত হইয়াছে মাত্র। ইহা ভাল করিয়। বদি বুঝিতে চাও আর কোন জাতির আত্যস্তরিক ভাব আলোচন! কবিয়৷ দেখ? ত্রাঙ্গণদিগের পুরাতন দার্শনিক কবিতা সকল পাশাপাশি রাখিয়া, বাইব্‌ল্‌ গ্রস্থখানি একবার পাঠ করিয়া দেখ। ভাহাঁতে কি দেখিতে পাও? আর কিছুই নহে,

হ৮ ভারতবর্ষে

কতকগুলি গীতিকবিতা৷ মাত্র; রোষ, দ্বেষ, নিরাশী, উৎসাহ, উচ্ছাস, মনের প্রচণ্ড ভাবদমৃহ, আত্মার সমস্ত কম্পন আন্দো, লন, রূঢ় উপমার দ্বারা জলন্ত কল্পনা-সহকারে ব্যক্ত হইয়াছে মাত্র; তাহার লিখনধারাও বিচ্ছিন্ন আকক্সিক এবং ভাষাও অতি সরল অন্ুট ; সে ভাষায় দার্শনিক চিন্তার তরঙ্গলহরী অনুসরণ কর! স্বকঠিন--তাহাতে কেবল অস্ফুট কণ্ঠে মানব-আত্মার আবেগ প্রকাশ করা যায় মাত্র। মনের আবেগ স্থায়ী প্রচণ্ড হইলে তাহার ফল কি হয় ?--না, মানুষ আপনার উপর ফিরিয়া আইসে। যখন সে যন্ত্রণ। ভোগ করে, যখন সে কাহারো! প্রতি দ্েষ প্রকাশ করে, তখন সে আপনাকে অতিক্রম করিতে পারে না। যে বহি- অর্গতের সহিত তাহার সংঘর্ষণ উপস্থিত হয়, সে বহির্জগৎকে মে পৃথক্‌ ভাবে দর্শন করে। যে আত্মা আবেগপুর্ণ তাহাতে আমিত্ব দৃচরূপে সংলগ্ন থাকে পৃথকভাবে অবস্থান করে) এই অবস্থাতে সে ধখন জগতের মুল তলাইয়। দেখিবার চেষ্টা! করে, তখন সে সেই মূলকে স্বতন্ত্র সর্বশক্তিমান আত্মা বলিয়াই করপন! করে।

“কিন্তু ব্রাঙ্মণদিগের মনের গতি ভিন্নকূপ হুওয়ায় তাহাতে তিন্নরূপ ফল উৎপন্ন হইয়াছে। বেদে কি দেখিতে পাওয়৷ যায়? তাহাতে কেবল প্ররৃতিবর্ণনামূলক কবিতা,--অরুণ, বরুণ, ইন, অগ্নি, আকাশ, বাষু, পৃথিবী ইহাদেরই স্বতিগান। উহা! বহিু'্থী, অন্তমু্থী নহে। উহাতে ব্যক্তিগত হৃদয়ের ভাব কিছুই নাই। উহাতে আত্ম! স্বতন্ত্র বলিয়া উপলব্ধি হয় না, কেবল প্রকৃতির প্রতিবিষ্ব--পরিবর্তনশীল ছায়ামাত্র বলিয়া মনে হয়। প্রকৃতিতে যেমন-যেমন পরিবর্তন উপস্থিত হইতেছে, আত্মাও উপস্থিতমত তাহারই ক্ষণস্থায়ী আকার ধারণ করিতেছে। কখনও মেঘরূপে নীল আকাশে ভাসমান, কখনও হূর্যবূপে দিগন্তে সমুদিত। এই

ত্রাঙ্মণ্যশান্ত্রের মায়াবাঁদ অদ্বৈতবাঁদ ২৪

আত্মাতে কোন আবেগ স্থায়ীরূপে থাকিতে চায় না, অন্তরে ঘনী- ভূত হইতে পারে না, পরিপুষ্ট হইতে পারে না; তাহার উপর দিয়া দ্রুততাঁবে চলিয়] যায় মাত্র। আত্মা আপনাকে বাহিরে প্রক্ষিপ্ত করে; আপনার চঞ্চল ক্ষণস্থায়ী ভাবসমূহ বহির্জগতে আরোপ করে। যদি আনন্দ হইল, তবে সে আনন্দ অগ্রির--ধিনি দ্রাক্গা- লতার মধ্যে দীপ্তি পাইতেছেন ) ষদি লঙ্জা ভয়ের উদ্রেক হইল, তবে সে লজ্জা ভয় তরুণ উষার) লঙ্জারক্কিম-কপোল বালিকার টায় উষা যেন মেঘের অন্তরালে লুকাইতেছে। অর্থাৎ একটি অখণ্ড পদার্থের মধ্যে কেন্দ্রীভূত না হইয়া, যে "আমি, ইচ্ছ! করিতেছে, কাজ করিতেছে, সুখ ছুঃখ ভোগ করিতেছে সেই আমির মধ্যে ব্ধ না থাকিয়া বৈদিক কবি আপনাকে বিশ্বময় ছড়াইয়াছেন। তিনি সমস্ত পদার্থে পরিব্যাপ্ত; প্রকৃতির আকার, প্রকৃতির শব্ধ, প্রকৃতির বর্ণ এই সমস্তের স্থান তাহার আত্ম! অধি- কার করিতেছে এবং প্রকৃতিও তাহার চিন্তায়, তাহার কল্পনায়, সজীব হইয়! উঠিতেছে।

“বৈদিক কবি প্রকৃতির জীবন্ত দেবোপম শক্তিগুলির পুজা করেন বটে, কিন্তু তাহার এই অদ্বৈতধন্ম একটু বিশেষ ধরণের ইন্জ, বরুণ, অগ্নি, কূর্ধ্য এই সকল দেবাত্মা। বটে, কিন্ত ইহাদের ব্যক্তিগত শ্বাতন্ত্রা তেমন সুম্পষ্ট নহে--ইহা্দের পরস্পরের মধ্যে আকার-বিনিময় পরিবর্তন চলিতেছে এই উতাই হুর্্য, এই নুর্য্যই অগ্নি, এই অগ্নিই বিদ্যুৎ, এই বিছ্যুতৎই ঝটিকা এবং এই ঝটিকাই বৃষ্টি; সকলই পরম্পরের মধ্যে যুক্ত, মিশ্রিত এবং ওত- : প্রোত। ইহার মধ্যে কিছুই স্থায়ী নহে। মন্থুয্যের মধ্যেও স্থায়ী ব্যক্তিত্বের তাব নাই--বাহ্‌জগতেও কেবলি পরিবর্তন। এই ভাবটি বেদেতে যাহ] বীজরূপে অবস্থিত, তাহা ব্রাঙ্গণদিগের

৩৪ ভার তবর্ষে।

পুরাতন দীর্শনিক কাব্যসমূহে বদ্ধিত পরিপুষ্ট হইয়া ক্রমশ: বৃক্ষরূপে পরিণত হইয়াছে এই সকল গ্রন্থ পাঁঠ করিলে দেখা যায়, যে আমিত্বের ভাব যুরোপীয়দিগের চিন্তা ধারণার মধ্যে বদ্ধমূল, সেই আমিত্ব উহাতে নাই মনের এই অবস্থা ভাল করিয়। বুঝিতে হইলে, আমাদের জীবনের কোন বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণ করিয়। দেখিতে হয়। কখন কখন আমাদের জীবনে একপ্রকার স্বপ্রবৎ অবস্থা হয়, তখন যেন আমাদের আমিত্বটা শিথিল হইয়া আসে, তথন আপনার নাম উচ্চারণ করিলেও ফেন কোন ব্যক্তির ভাব মনে আইনে না, যেন অর্থহীন শব্দমাত্র বলিয়া উপলব্ষি হয়; তখন কষ্টের সহিত আমরা প্রশ্ন করি, “আমি কি আছি? এই “আমির অর্থ কি? এই অদ্ভুত অনুভব যাহা আমাদের মধ্যে ক্ষণিক তাহা হিন্দুদিগের অন্তরে স্থায়ীভাবে অবস্থিত। তাহার! আত্মাকে এইভাবে দেখে, যেন উহা৷ একটি ক্ষেত্র__যাহার উপর দিয়? বিবিধ স্বপ্ন ক্রমাগত গতিবিধি করিতেছে) অন্তরের মধ্যে এমন কিছুই দেখিতে পায় যাহা স্থায়ী। ণচলৎ চিত্তং চলত বিভ্তং চলৎ জীবন- বৌবনং।” এই বিশ্বের অনিত্যবাদ হিন্দুদিগের মধ্যে শান্ত্রাকারে পরিণত হুইয়াছে। আমাদের দেহ অন্ন হইতে অর্থাৎ পৃথিবী হইতে উৎপন্ন; বহির্জগত হইতে পঞ্চভূত আহরণ করিয়া! আনি- তেছে, আবার উহা ত্যাগ করিতেছে, আবার নৃতন উপকরণ গ্রহণ করিতেছে ; এই প্রকারে দেহ বদ্ধিত হইয়া জীবিত রহিয়াছে ; আমাদের জীবন কতকগুলি পরিবর্তন ভিন্ন আর কিছুই নহে। ক্ষিতি, তেজ, মরুৎ, ব্যোম, পশুপক্ষী, বৃক্ষ, উদ্ভিজ্জ, চিন্তা, মন, চতুর্ষেদ সকলই এই বিশ্বব্যাপী চঞ্চল ক্ষণস্থারী আবর্তের অস্তভূতি। সুরধ্য সমুদ্র জীবজন্ত উত্ভিজ্জ হইতে যে বাপ্পরাশি নিঃশ্বদিত হইতেছে এবং যাহা সুরধ্য,, জীবন্ত উত্ভিচ্জ-দেহের অংশীভূত

বাঙ্গণ্যশাস্ত্রের মাঁয়াবাঁদ মন্বৈতবাঁদ।

হইয়া ছিল, সেই বাপ্পরাশি উথিত হইয়া সম্মিলিত হইতেছে, দীপ্তি পাইতেছে, আকাশময় ধাবিত হইতেছে, শীতল হইয়! পুনর্ধার ধরাতলে পতিত হইতেছে, আবার অবস্থাবিশেষে, সৃর্যা, সমুদ্র, জীবজ্ত, বৃক্ষলতার আকার ধারণ করিতেছে এই প্রকারে ঘাহ] আমর! স্বতন্ত্র পদার্থ বলিয়া! বিশ্বাস করি, তাহা অনবরত পরস্পরের মধ্যে মিশ্রিত হইতেছে, এবং পরস্পর হইতে বিধুক্ত হইতেছে যজ্ঞের হোতা ধিনি, তিনি বাযু হইয়া ধূম হইয়া যাইতেছেন। ধূম হইয়া গিয়া বাম্প হইয়া যাউতেছেন ; বাষ্প হইয়া গিয়া! মেঘ হইয়া যাইতেছেন, এবং মেঘ হইয়া অবশেষে বুষ্টরূপে পতিত হইতেছেন, পরে আবার প্রাণরূপে শশ্তাকারে, উত্ভিজ্জাকারে, বুক্ষাকারে, সর্ধপাকারে পরিণত হইতেছে ন।

“উপরে ঘেরূপ বর্ণিত হইল, তাহার সহিত অ্বৈতবাদের অতি অল্পই 'প্রতেদর ; এবং দুইটি পথ দিয়া এই অদ্বৈতবাদে উপনীত হওয়! যায়। যেহেতু, সর্ধপ্রকার আকৃতি একবার যাইতেছে আবার আসিতেছে, সুতরাং উহার মায়াময়; উহাদের গুণ, উৎপত্তির পদ্ধতি, উহাদিগের হইতে প্রত্যাহরণ করিয়া! লও, তাহা হইলে অবশিষ্ট কি থাকে? কিছুই থাঁকে না, বৌদ্ধেরা বলে নাস্তি অবশিষ্ট থাকে; জগতের কোন অস্তিত্ব নাই-নাস্তিত্ব ভিন্ন আর কিছুই নাই। ব্রাহ্মণের বলেন, যাহা আছে তাহাই আছে_-তৎসৎ_- তাহা ভিন্ন আর কিছুই নাই। সেই তৎসৎ সর্বগুণ-বিরহিত। যাহ! «“নেতি নেতি,৮ যাহা কারণ৪ নহে, কার্ধাও নহে, এক কথায় তাহাই ব্রহ্ম ; এই ত্রহ্গ ক্রীবলিঙ্গ শব্ববাচক, অনির্দেশা বিকার- শৃন্য ইনি চিন্যা করেন না, ইচ্ছা করেন না, দর্শন করেন না, জানেন না, ইনি শুদ্ধ নিগুণস্থরূপ। বিশুদ্ধ চিন্তার দ্বারা এই ঙ্ধকে প্রাপ্ত হওয়া বায়, £ই ক্লীবলিগ্ ব্রন্মের উপরিভাগে পুংলিঙ্গ

ভারতবর্ষে 1

বর্গ অবস্থিত এই ব্রহ্ম জীব্ত, ম্পৃশ্য সবর্ণ। ইহার অর্থ এই £-. এই চঞ্চল ক্ষণস্থায়ী আবর্তের অন্তস্তলে যেরূপ একমাত্র স্থায়ী পদার্থ প্রচ্ছন্ন আছে, সেইরূপ এই আবর্ত সংগঠন সংরক্ষণের জন্যও একটি শক্তি থাক চাই। ঘেছেতু জগতে কেবলি গতি, সুতরাং এমন একটি শক্তি থাকা! চাই যে এই গতিকে নিয়মিত করিতে পারে। বেহেতু, এই জগৎ প্রস্তরের ন্যায় অচল নহে, পরস্থ বৃক্ষের ন্যায় প্রাণবিশিষ্ট, সুতরাং ইহা সংরক্ষণ পরিপোষণের জন্য একটি আত্মার আবশ্যক এই আত্মাই ব্রহ্ম, ইনি বিশ্বের বীজস্বরূপ, ইনি 'জীবস্ত অশরীরী আত্মা” ইনি জীবন্ত, সুতরাং সগুণ, ইনি নিগুণ বঙ্গের প্রথম-আবির্ভাব--প্রথম বিকাশমাত্র নিগুণ ব্রন্ধ সগ্তণ ব্রহ্ম এক নহে। ব্রক্ষা! ব্রহ্ম বটে, কিন্তু মায়ার দ্বার! আচ্ছন্ন, কালের অধীন। ব্রঙ্গের দুই রূপ; এক, ধিনি কালকে জানেন ) আর এক, বিনি কালকে জানেন না। ধিনি কালকে জানেন তাহার অংশ আছে। এক মহান্‌ জীবস্ত আত্মার অভ্যন্তরে কালই নকল জীবকে বদ্ধিত করিতেছে বিনষ্ট করিতেছে, কিন্তু ধিনি জানেন, শ্বয়ং কাল কাহার মধ্যে বিলীন হইয়1 যায়, তিনিই বেদজ |”

“কল্পনা কর! যাউক, এক পূর্ণ সত্তা, বিশুদ্ধও নিগুপ সকলের আদিতে নকলের মূলে বর্তমান) তিনি সকল আকার সকল বীজের আধার” বাহিরে আপনাকে প্রকাশ করিয়া, তিনি মায়ার অধীন হইয়াছেন; “নিজ দেহের উপকরণ হুইতে উর্ণবায় যেরূপ তন্ত আহরণ করিয়া আপনাকে আচ্ছাদন করে, সেইরূপ তিনি নিজন্বরূপনিঃস্যত গুণের দ্বারা আপনি আচ্ছন্ন হইয়! আছেন, ; তাহার প্রথম নিসর্গ সণ্ডণ জীবন্ত ব্রহ্ম, সেই কুক্ষ সার্ব- তৌমিক আত্মা “ধিনি জগতের মধ্যে থাকিয়া, জগতের বিচিত্রতা

্াঙ্গণ্যশাঙ্্রের মায়াবাঁদ জদ্বৈতবাঁদ | শও

মম্পাদন করিতেত্ছন, সেই আম্মা পুরুষও নহে, স্বীও নহে এবং ক্লীনও নহে ( সেই আত্ম। যিনি কোটি কোটি আকার ধারণ করিতেছেন, ধাঁহা হইতে সকল পদার্থ নিঃস্থত হইন্ত্রা আবার তাহাতেই গন করে, বিনি নিজে বিশ্বব্ঙ্গাণ্ডের ন্যায় অস্থাম্বী, ধিনি কোটি কোট ঘুগের পর-_যাহ। তাহার এক দিন--অচ্ছায়, অদেছ, অবর্ণ” নিগুণ পররদ্ধে পৃনর্বার লয় প্রাপ্ত হন। এই জগৎ এক প্রকাণ্ড বৃক্ষের ন্যায় শাখাপলপৰ বিস্তার করিয়া! আছে) ইহার মূলে বে বী্গ ছিল